মার্ভেল সিনেমা ‘থান্ডারবোল্টস*’ (Thunderbolts*) রিভিউ
লেখক: এস এম বাহাদুর আলম। প্রকাশিত:৭/৫/২৫
মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্স (MCU)-এর ফেজ ৫-এর শেষ চলচ্চিত্র ‘থান্ডারবোল্টস*’ অবশেষে মুক্তি পেয়েছে। বহু প্রতীক্ষিত এই চলচ্চিত্রটি সুপারহিরো ঘরানার সাধারণ নিয়ম ভেঙে একদল ভাঙা, বিপথগামী, কিন্তু মানবিক চরিত্রের গল্প তুলে ধরেছে। পরিচালক জেক শ্রেইয়ার এই প্রজেক্টের মাধ্যমে একটি অদ্ভুত কিন্তু প্রাসঙ্গিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন – সুপারহিরো হওয়া মানেই নিখুঁত হওয়া নয়।
কাহিনী সংক্ষেপ
‘থান্ডারবোল্টস*’ শুরু হয় ইয়েলেনা বেলোভা, বাকি বার্নস, ইউএস এজেন্ট, রেড গার্ডিয়ান, ঘোস্ট, টাস্কমাস্টার এবং নতুন চরিত্র বব (যে পরবর্তীতে সেন্ট্রি রূপে পরিণত হয়) - এই দলটিকে নিয়ে। তাদের একত্রিত করেন ভ্যালেন্টিনা আলেগ্রা ডি ফন্টেইন, এক উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, যার উদ্দেশ্য স্পষ্ট নয়।
এই দলের মূল উদ্দেশ্য একটি গোপন মিশন সম্পাদন করা – যেখানে তারা মুখোমুখি হয় এক বিধ্বংসী জীবাণু অস্ত্র প্রকল্পের, যার সঙ্গে জড়িত একটি উচ্চমাত্রার সুপার সোলজার প্রোগ্রাম। ঘটনাক্রমে, সেন্ট্রি তার শক্তির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং ‘ভয়েড’ নামে এক অন্ধকার সত্তায় পরিণত হয়, যা গোটা শহরকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়।
অভিনয় ও চরিত্রায়ণ
ফ্লোরেন্স পিউ (ইয়েলেনা) চরিত্রটিকে দুর্বলতা এবং দৃঢ়তার একটি মিশ্রণে উপস্থাপন করেছেন। বাকি বার্নস হিসেবে সেবাস্টিয়ান স্ট্যান তার অভ্যস্ত বিষণ্নতা ও কনফ্লিক্ট খুব ভালোভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। রেড গার্ডিয়ান চরিত্রে ডেভিড হারবার মজার ও আবেগপূর্ণ ব্যালান্স রেখেছেন।
তবে সবচেয়ে আলোচিত চরিত্র ছিল বব/সেন্ট্রি। লুইস পুলম্যান এই চরিত্রটিকে একদিকে অপ্রতিরোধ্য শক্তি, অন্যদিকে মানসিক দুর্বলতা দিয়ে এমনভাবে গড়ে তুলেছেন, যা দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। ‘ভয়েড’ নামক তাঁর অন্ধকার বিকল্প সত্তার ব্যবহার সিনেমাটির থিমকে আরও গভীর করে তোলে।
নির্মাণশৈলী ও ভিজ্যুয়াল
পরিচালক শ্রেইয়ার সিনেমাটিতে বাস্তবসম্মত ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট এবং সাসপেন্সফুল ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোরের মাধ্যমে দর্শককে টানতে পেরেছেন। ভিজ্যুয়াল এফেক্ট খুব বেশি আঁটসাঁট CGI নয়, বরং হাতে গড়া এক প্রকার র’ (raw) ফিনিশিং – যা সিনেমাটিকে আরও মানবিক করে তোলে।
থিম ও বার্তা
‘থান্ডারবোল্টস*’ মূলত মানসিক স্বাস্থ্যের উপর জোর দেয়। বিশেষ করে সেন্ট্রি চরিত্রের মাধ্যমে উদ্বেগ, মানসিক অস্থিরতা এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের লড়াইটি অসাধারণভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। এই সিনেমাটি প্রশ্ন তোলে – নায়ক হওয়া কি শুধুই শক্তি? না কি আত্মসমালোচনা, অপরাধবোধ এবং পাপ-পূরণের সুযোগও একটি নায়কের অংশ?
এছাড়াও, সিনেমাটির আরও একটি দিক হলো দলগত সম্পর্ক – একদল "ভাঙা" মানুষ কিভাবে একত্র হয়ে একটি বৃহৎ শক্তিকে মোকাবিলা করতে পারে, সেটাই মূল প্রতিপাদ্য।
বক্স অফিস ও সমালোচকদের প্রতিক্রিয়া
‘থান্ডারবোল্টস*’ মুক্তির প্রথম সপ্তাহান্তে বিশ্বব্যাপী প্রায় $১৬৫.৫ মিলিয়ন আয় করে। Rotten Tomatoes-এ সমালোচকদের স্কোর ছিল ৮৮% এবং দর্শকদের স্কোর ৯৪%। অনেকেই একে মার্ভেলের সবচেয়ে মানবিক ও বাস্তবধর্মী সিনেমাগুলোর একটি বলছেন।
উপসংহার
‘থান্ডারবোল্টস*’ সুপারহিরো সিনেমা জেনারের একটি ভিন্নরকম অভিজ্ঞতা। যারা অ্যাকশন ছাড়াও মানসিক দ্বন্দ্ব, নৈতিক প্রশ্ন এবং বাস্তব জীবনের সমস্যার ছায়া খুঁজে পান সিনেমায় – তাদের জন্য এটি একটি অবশ্যই দেখা উচিত চলচ্চিত্র।
